জহিরকে নিয়ে বেশি চিৎকার তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে

স্বাধীন বাংলাদেশে,১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ হন জহির রায়হান। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কে বা কারা দায়ী এবং এর কারণ কী ছিল—তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য ও তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে, সে সময়ের কিছু পত্রিকায় এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে একটি তথ্য পাওয়া যায় দৈনিক আজকের কাগজ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে (৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩)। জহির রায়হান বেরিয়ে যাবার সময় তাদের বাড়িতেই ছিলেন জহির রায়হানের পারিবারিক স্বজনদের অনেকেই।
এর মধ্যে শাহরিয়ার কবির সম্মুখেই এসব হয়। তিনি ফিরে আসেন কিন্তু জহির রায়হান আসেন নাই। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অনেক ঝামেলা ও হয়। জহির রায়হানের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা সুচন্দা বলেন,“জহির বেঁচে থাকা অবস্থায় সর্বশেষ প্রেসক্লাবে দাঁড়িয়ে এক বক্তব্যে বলেছিলেন¬, যারা এখন বড় বড় কথা বলেন, নিজেদের বড় বড় নেতা মনে করেন, তাদের কীর্তি কাহিনী, কলকাতায় কে কী করেছিলেন, তার ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে। তাদের মুখোশ আমি খুলে দেবো।’
এই কথা তিনি মুখ দিয়ে প্রকাশ্যে বলে ফেলার পরই তার উপর বিপদ নেমে আসে। এই বলাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো।” জহির রায়হানের বোন নাসিমা কবির যখন নিখোঁজ জহির রায়হানের খোঁজে বড় বড় নেতাদের কাছে রাত দিন পাগলের মত ছুটে গেছেন। ১৯৭২ সালে পত্রিকা গুলোতে বেশ লেখালেখি শুরু হয়। যে রফিকের ফোন পেয়ে জহির রায়হান ঘর থেকে বের হয়ে যান, সেই রফিককে একদিন হঠাৎ করে সপরিবারে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।
জহির রায়হানের বড় বোন নাসিমা কবিরকে ডেকে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সরাসরি বললেন - “জহিরকে নিয়ে বেশি চিৎকার করলে তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে”। -দৈনিক আজকের কাগজ (৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩)
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।

