প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

তালা ভেঙে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন মুক্তিযোদ্ধারা

তালা ভেঙে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন মুক্তিযোদ্ধারা

সুনামগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবসে ডিএস রোডের (দেওয়ান সাহেব রোড) পুরাতন শহীদ মিনারে তালা দেওয়া দেখে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা তালা ভেঙে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তারা শহীদ মিনারে এসে তালাবদ্ধ গেট দেখতে পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করেন এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এর আগে রাতেই শহীদ মিনারে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। সুনামগঞ্জ ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয়।

১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আগেই মুক্তিযোদ্ধারা শহরের ডিএস রোডে এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর মোতালিবের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী এর নকশা তৈরি করেন। ধারণা করা হয়, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নির্মিত এটিই দেশের প্রথম শহীদ মিনার। শহরে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের আর কোনো স্মৃতিফলক না থাকায় এটি একাত্তরের ও বায়ান্নোর স্মৃতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

কয়েক বছর আগে সুনামগঞ্জ কোর্ট চত্বরে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। এরপর থেকে জাতীয় দিবসে উভয় স্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কিন্তু এবার স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারের প্রবেশ গেটে তালা লাগানো হয়। ফলে অনেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং কোর্ট চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তালাবদ্ধ গেট দেখে ক্ষুব্ধ হন। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

জেলা উদীচীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে গেটে তালা দেওয়া দেখে আশ্চর্য হয়েছি। এই প্রথম কোনো স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে তালাবদ্ধ গেট দেখে ফিরে এলাম। পরে কোর্ট চত্বরে স্মৃতিফলকে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছি। গেটে কেন তালা দিয়ে রাখা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রেওয়াজ অনুযায়ী, এই শহীদ মিনারেই ফুল দিতে আসেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে তালা ভেঙে শহীদ মিনারে প্রবেশ ছাড়া উপায় ছিল না তাঁদের।"

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বলেন, "মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে তালা দিয়ে রেখে তারা দায়িত্বহীন কাজ করেছেন। আমরা বাধ্য হয়েই তালা ভেঙে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আমাদের নিজ হাতে নির্মিত সুনামগঞ্জের এই শহীদ মিনার। স্বাধীনতা দিবসে তালা দেওয়া দেখে খুবই মর্মাহত হয়েছি।" জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন বলেন, "ফুল দিতে গিয়ে দেখি শহীদ মিনারের গেটে তালা দেওয়া।

স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনার তালাবদ্ধ রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই মুক্তিযোদ্ধাগণ ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ভেঙে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শুনেছি, অনেকেই শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে গেটে তালা দেখে ফিরে গেছেন। তালা কারা দিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলতে পারি, শহীদ মিনারটি বর্তমানে পৌর প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছি।"

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, "শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। আর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর স্থান হলো স্মৃতিস্তম্ভ। স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়া হবে, তাই পুরাতন শহীদ মিনার বন্ধ রাখা হয়। সবাইকে জানাতে হবে যে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর স্থান ‘স্মৃতিস্তম্ভ’।" তবে মুক্তিযোদ্ধারা এ ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, শহীদ মিনার কেবল ভাষা শহীদদের জন্য নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধেরও স্মারক।

ফলে স্বাধীনতা দিবসে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেই দাবি জানিয়েছেন তারা। সূত্র: সুনামগঞ্জের খবর

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।