প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

চীন বাদে সব দেশের জন্যই শুল্ক স্থগিত, ইউনূসের চিঠির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

ফটোকার্ড: চীন বাদে সব দেশের জন্যই শুল্ক স্থগিত, ইউনূসের চিঠির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীন ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি চিঠির প্রেক্ষিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্পের ঘোষণায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এই শুল্ক বিরতির সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বরং চীন ছাড়া সকল দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়েছে।

তিনি Truth Social-এ লিখেছেন, "I have authorized a 90-day PAUSE, and a substantially lowered Reciprocal Tariff during this period, of 10%, also effective immediately."("আমি ৯০ দিনের জন্য একটি বিরতির অনুমোদন দিয়েছি, এবং এই সময়ের জন্য পারস্পরিক শুল্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছি, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।"

) এছাড়াও, প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে চীনকে এই ছাড়ের বাইরে রাখার কথা বলেছেন,"Based on the lack of respect that China has shown to the World's Markets, I am hereby raising the Tariff charged to China by the United States of America to 125%, effective immediately."("বিশ্ববাজারের প্রতি চীনের অসম্মানজনক আচরণের কারণে আমি এখনই চীনের উপর আরোপিত শুল্ক ১২৫ শতাংশে উন্নীত করছি।"

) যদিও গত সোমবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশকে সময় দেওয়া হোক, যাতে আমদানি বাড়িয়ে ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। চিঠির শেষাংশে ড. ইউনূস তিনি অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যে আরোপিত পালটা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি আমাদের এই অনুরোধ গ্রহণ করবেন। কিন্তু, ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কোনো বিবৃতিতেই ড. ইউনূসের চিঠির উল্লেখ পাওয়া যায়নি। অথচ বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইউনূসের চিঠির প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প “বাংলাদেশকে শুল্ক স্থগিত সুবিধা দিয়েছেন”। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলেন, এটি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।

স্কট বেসেন্ট হচ্ছেন হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং বর্তমান ট্রেজারি সেক্রেটারি—যিনি এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, "We told the world: Do not retaliate and you will be rewarded."("আমরা বিশ্বকে বার্তা দিয়েছি: যদি পালটা প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ না করো, তাহলে পুরস্কার পাবে।") এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, এই শুল্ক বিরতি মূলত চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কৌশল।

তার মতে, এটি ট্রাম্পের পূর্বপরিকল্পিত কৌশলেরই অংশ। মূলত, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ—বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং বাকি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা। যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি চিঠির প্রেক্ষিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশের জন্য যদি বিশেষ ছাড়ই থাকত, তাহলে ভিয়েতনাম, ইউরোপ, মেক্সিকো, ভারত—তাদের ক্ষেত্রেও কেন একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো?

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।