প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

ঐতিহাসিক লোগাঙ পদযাত্রা দিবস আজ

ফটোকার্ড: ঐতিহাসিক লোগাঙ পদযাত্রা দিবস আজ

আজ ২৮ এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক লোগাঙ পদযাত্রা দিবস। ১৯৯২ সালের এই দিনে লোগাঙ গণহত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি সদর থেকে লোগাঙ অভিমুখে ঐতিহাসিক মৌন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে এ পদযাত্রায় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নেন। লোগাঙ গণহত্যার প্রতিবাদ ও শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে ১৯৯২ সালের ২৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ি সদরের কড়ইতলা (খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গন) থেকে শুরু হয় লোগাঙ অভিমুখে এই পদযাত্রা।

তিন পার্বত্য জেলার হাজার হাজার ছাত্র-জনতা এই পদযাত্রায় সামিল হন। ঢাকা থেকে আগত প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মি ও লেখকরাও জুম্ম জনগণের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে এই পদযাত্রায় অংশ নেন। তাদের এই অংশগ্রহণ জুম্ম জনগণের মনে আরো বেশী শক্তি ও সাহস সঞ্চার করে।

সেদিন সকল রক্ত চক্ষু ও বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা পদযাত্রা সহকারে হত্যাযজ্ঞস্থল লোগাঙ পোড়া ভিটায় গিয়ে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানায় এবং ধর্মীয় বিধান মতে শহীদদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে দেয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের লড়াই সংগ্রাম এক নতুন মাত্রা লাভ করে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সেটলার বাঙালিরা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাঙে পাহাড়িদের গুচ্ছগ্রামে হামলা চালিয়ে বর্বর গণহত্যা সংঘটিত করে। সেটলাররা দা, বটি, কুড়াল দিয়ে পাহাড়িদের উপর আক্রমণ করে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা জুম্মদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকশত পাহাড়ি হতাহত হয়। অনেকে নিঁখোজ হয়ে যায়। সেদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী কেউই রেহাই পায়নি।

১৯৯২ সালে, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অধীনে আয়োজিত এক বৈঠকে রামেন্দু শেখর দেওয়ান, শান্তিবাহিনীর মুখপাত্র হিসেবে, লোগাং গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার বক্তব্য পেশ করেছিলেন, যেখানে তিনি উন্মোচন করেছিলেন সেই গণহত্যার ভয়াবহতা এবং তার আদ্যোপান্ত। দাবি করেন, এই ঘটনায় ১৫০০ জুম্ম পরিবারকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক উচ্ছেদ করা হয়। ৮০০ ঘরবাড়ি ও প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, গুচ্ছ গ্রামটিকে সমাধি ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়।

এই গণহত্যা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আরেকটি জুম্ম শরণার্থীর ঢল পাঠায়। বর্বর এ গণহত্যার আজও কোন বিচার হয়নি। সূত্র:CHT NEWS

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।