প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাসের পাতায় ৩০ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন

১৯৪৫ সালের এই দিনে বার্লিনের এক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নাৎসি জার্মানির ফ্যাসিবাদী নেতা অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করেন।

ফটোকার্ড: ইতিহাসের পাতায় ৩০ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন

ইতিহাসের পাতায় ৩০ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে বার্লিনের এক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নাৎসি জার্মানির ফ্যাসিবাদী নেতা অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করেন। তার উগ্র জাতিবাদী ও ফ্যাসিবাদী নীতি, আগ্রাসন এবং গণহত্যার মাধ্যমে পৃথিবীকে ঠেলে দেয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের ভয়াবহতার দিকে। এই দুই ঘটনার সম্মিলিত ফলে প্রাণ হারায় প্রায় ৭০–৮৫ মিলিয়ন মানুষ—যা তৎকালীন বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় এসে হিটলার শুরু করেন দমন-পীড়ন ও যুদ্ধের প্রস্তুতি।

তার নেতৃত্বে সংঘটিত হলোকাস্টে ১১–১৭ মিলিয়ন মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে ৬ মিলিয়ন ছিলেন ইহুদি। বাকিরা ছিলেন রোমা, সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, পোলিশ, প্রতিবন্ধী এবং রাজনৈতিক বিরোধী। নাৎসি বাহিনীর দমননীতি, জোরপূর্বক শ্রম, গণঅনাহার ও নির্বিচার হত্যায় আরও প্রায় ২০.৯ মিলিয়ন মানুষ মারা যান—এর মধ্যে প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ছিলেন স্লাভ জনগোষ্ঠীর সদস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনুমানিক ৫০–৫৫ মিলিয়ন বেসামরিক নাগরিক ও ২১–২৫ মিলিয়ন সেনা নিহত হন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন (প্রায় ২৭ মিলিয়ন মৃত্যু) এবং পোল্যান্ড (প্রায় ৬ মিলিয়ন)। ১৯৪৫ সালে, যখন সোভিয়েত রেড আর্মি বার্লিন অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং নাৎসি বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়, তখন অ্যাডলফ হিটলার তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইভা ব্রাউনের সঙ্গে ২৯ এপ্রিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু পরাজয় অনিবার্য জেনে, ঠিক পরদিন ৩০ এপ্রিল, তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ইভা ব্রাউন সায়ানাইড গ্রহণ করে এবং হিটলার নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে।

এই করুণ এবং ন্যায্য পরিণতি নাৎসি জার্মানির পতন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির দ্বার উন্মোচন করে। প্রতীকী অবসান ঘটায় নাৎসি শাসনের এবং কয়েকদিন পর, ৭ মে, জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার মূল্য, এবং সেইসব মানুষের আত্মত্যাগের কথা যাদের রক্তের বিনিময়ে মানবতা এক ভয়াবহ অধ্যায়ের অবসান ঘটায়।

এই প্রসঙ্গে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের অন্তরস্পর্শী বাণীটি আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়— “প্রত্যেক স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ রেড আর্মির কাছে এতটাই ঋণী, যে এক জীবনে সে ঋণ শোধ করা অসম্ভব।” – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।