বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবনে বটগাছ কখনো কখনো হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মেলবন্ধনের প্রতীক
বটগাছের তলায় বসতো হাট-বাজার, গ্রামীণ মেলা, ধর্মীয় উৎসব, এমনকি বহু যুগ ধরে সেখানে চলত গ্রাম্য সালিশ ও বিচার।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবনে বটগাছ কখনো কখনো হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মেলবন্ধনের প্রতীক। বটগাছের তলায় বসতো হাট-বাজার, গ্রামীণ মেলা, ধর্মীয় উৎসব, এমনকি বহু যুগ ধরে সেখানে চলত গ্রাম্য সালিশ ও বিচার। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বট ছিল কৃষকের ক্লান্ত দুপুরে একমাত্র ছায়া ও আশ্রয়। এই ধরনেরই একটি শতবর্ষী বটগাছ — প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের আলম মীরের কান্দি এলাকায়।
গাছটির গোড়ায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছিল মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা, আর আবেগের ইতিহাস। কেউ সন্তান কামনায়, কেউ রোগমুক্তির আশায়, আবার কেউ নিঃসঙ্গ বিকেলে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিলেন এর শীতল ছায়ায়। কিন্তু আজ, ধর্মীয় ‘শিরক’-বিরোধিতার যুক্তিতে, উলামা পরিষদ মাদারীপুর এর কোষাধক্য হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক সহ স্থানীয় মুসুল্লি ও আলেম-ওলামাগণের মিলে সেই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, “মানুষ সেখানে মানত করত, মোমবাতি জ্বালাত, যা ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক।”
তবে প্রশ্ন উঠছে মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কেন্দ্র একটি বৃক্ষ যদি কোনো ‘অবিশ্বাস’ এর স্থান হয়ে ওঠে, তবে তার দায় কি গাছের ?একমাত্র সমাধান কি গাছ কেটে ফেলা?
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।

