১৯৩৩ সালের ১০ মে, নাৎসি জার্মানিতে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বড় পরিসরের বই পোড়ানো কর্মসূচি
বার্লিনের বেবেলপ্লাৎস ছিল এই নৃশংস কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল, যেখানে লক্ষাধিক বই প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

১৯৩৩ সালের ১০ মে, নাৎসি জার্মানিতে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বড় পরিসরের বই পোড়ানো কর্মসূচি। বার্লিনের বেবেলপ্লাৎস ছিল এই নৃশংস কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল, যেখানে লক্ষাধিক বই প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই দিনই নাৎসিরা আগুন ধরিয়ে দেয় “ইনস্টিটিউট ফর সেক্সুয়াল সায়েন্স”-এর লাইব্রেরিতে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইহুদি চিকিৎসক ম্যাগনাস হির্শফেল্ড, যিনি সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকার আন্দোলনের একজন অগ্রদূত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক লিঙ্গ পুনঃনির্ধারণ (জেন্ডার অ্যাফারমেশন) সার্জারির পথিকৃৎ হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় — যেখানে ১৯২২ সালে ডোরা রিখটার নামে এক ট্রান্স নারীকে প্রথম সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠান ও এর সংগ্রহশালা ৬ মে জবরদখল ও ধ্বংস করে নাৎসিরা। ১০ মে, বেবেলপ্লাৎসে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ জড়ো হয়েছিল নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ভাষণ শুনতে। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন: "অবক্ষয় ও নৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে না!"—এই স্লোগানে।
এদিন কেবল বার্লিন নয়, জার্মানির ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় শহরেও গ্রন্থদহন অনুষ্ঠিত হয়। আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় হাজারো বই, যার মধ্যে ছিল ইহুদি লেখক যেমন আলবার্ট আইনস্টাইন, কার্ল মার্কস, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের রচনাসমূহ। একইসঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হয় সমাজতান্ত্রিক লেখক জ্যাক লন্ডন, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ও হেলেন কেলারসহ বহু প্রগতিশীল চিন্তাবিদের লেখা। এই ঘটনাটি ছিল নাৎসি শাসনের সাংস্কৃতিক নিধন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম ভয়ঙ্কর আক্রমণ।
এটি আজও ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।

