জামালপুরের মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনগণ
প্রতারণার দায়ে আজ শনিবার দুপুরে পৌর জামায়াতের আমীর মোকাদ্দেসকে জুতার মালা পরিয়ে মিছিল করে থানায় সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনগণ। প্রতারণার দায়ে আজ শনিবার দুপুরে পৌর জামায়াতের আমীর মোকাদ্দেসকে জুতার মালা পরিয়ে মিছিল করে থানায় সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। তার সঙ্গে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধদের দাবি, মোকাদ্দেস ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
শুধু তাই নয়, গ্রাহকেরা অভিযোগ করছেন—গত চার-পাঁচ দিন ধরে চলমান প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব ও সম্পাদন করে আলাদা করে রাখা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে মালিকেরা দেউলিয়া ঘোষণা দিয়ে নিজেদের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করতে পারেন। বিশেষ করে আলোচিত আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান—জামালপুর জেলার ‘শাহ জামাল হাসপাতাল’—এর নাম, মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো থেকে 'আল-আকাবা' সমবায়ের সংশ্লিষ্টতা মুছে ফেলে নতুন নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় এক গ্রাহক বলেন,আমাদের চোখের সামনেই মাদারগঞ্জ সমবায় অফিসের একজন কর্মকর্তা নথিপত্র পরিবর্তন করেছে, আল আকাবার নাম মুছে দিয়ে হাসপাতালটির মালিকানা আলাদা করে ফেলছে। প্রতারণার এই প্রক্রিয়ায় সমবায় অফিসের কিছু কর্মকর্তারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষায়, “নথি লুকানো ও মুছে ফেলার মাধ্যমে সমিতিগুলোকে ব্যক্তিগত মালিকানায় রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।”
উল্লেখ্য, জামালপুরে ২৩টি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ৩৫ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত সমিতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধুন।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





