আজ শহীদ ছাত্রনেতা জামিল আখতার রতনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী
১৯৮৮ সালের এই দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে প্রকাশ্য দিবালোকে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে জামিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আজ শহীদ ছাত্রনেতা জামিল আখতার রতনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৮ সালের এই দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে প্রকাশ্য দিবালোকে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে জামিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয় ইসলামী ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের। শহীদ জামিল তখন কলেজ শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ছিলেন এবং রাজশাহীতে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।
সেই ঘটনার পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়,“৩১ মে বেলা ১১টার দিকে সাধারণ ছাত্ররা একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অভিযোগ জানায় যে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছত্রছায়ায় একদল বহিরাগত অস্ত্রসহ প্রধান ছাত্রাবাসের পশ্চিম-উত্তর ব্লকে অবস্থান করছে। কাউন্সিলের সদস্যরা সরেজমিনে গেলে কিছু ছাত্র—যারা শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত—বাধা দেয়। তারা দাবি করে, প্রত্যেকের পাঁচজন অতিথি রয়েছে এবং ব্লক পরিদর্শন নিষিদ্ধ।
এরপর শিক্ষকরা যখন সেদিকে অগ্রসর হন, তখন হঠাৎ বাঁশি ও ‘নারায়ে তাকবীর’ ধ্বনির সঙ্গে শতাধিক অস্ত্রধারী ব্যক্তি বেরিয়ে এসে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন পঞ্চম বর্ষের ছাত্র জামিল আখতার রতন, যিনি পরে অপারেশন থিয়েটারে মারা যান।” একাডেমিক কাউন্সিল আরও জানায়,“ছাত্রাবাস ত্যাগের সময় হামলাকারীরা শিক্ষক ও গাড়ি বহরের ওপর পুনরায় হামলা চালায়, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বোমা নিক্ষেপ করে।” এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৮ সালে ছোট ছোট কয়েকটি দলকে নিয়ে সংসদ নির্বাচন করেন। নির্বাচনের পর নিজের অবস্থান মজবুত করতে এবং রাজপথের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। ওই নির্বাচিত সংসদেই তিনি পাস করান সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী, যার মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বামপন্থী দল, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তি রাজপথে নামে।
রাজশাহীর আন্দোলনের সামনের সারির একজন ছিলেন ছাত্রনেতা জামিল। শহীদ জামিল আখতার রতনের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয় তাঁর অসামান্য লড়াইয়ের কথা—একটি বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্নের জন্য।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





