পিতা-পুত্র আটক; মামলার বাদী- এক সাক্ষী নিজেই প্রত্যক্ষদর্শী নন

লালমনিরহাটের গোশলা বাজার এলাকায় এক সেলুন ব্যবসায়ী পিতা ও তার ছেলেকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের করা মামলায় এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার বাদী ও এক সাক্ষী কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন বলে স্বীকার করেছেন । পরিবারের দাবি, ঘটনাটি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় চুল কাটানোর পর টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীল। তারা দুজনই পেশায় নাপিত এবং দীর্ঘদিন ধরে গোশলা বাজারে একটি সেলুন পরিচালনা করে আসছেন। পরেশ চন্দ্র শীলের পুত্রবধূ দিপ্তী রানী শীল বিবিসি বাংলাকে বলেন,"আমার শ্বশুড় ও স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। তারা মিথ্যে অভিযোগ করেছে। আমার শ্বশুড় আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে টাকা নিয়েই কথা কাটাকাটি হয়েছিলো তাদের মধ্যে।" তিনি আরও বলেন,"আমি আমার শ্বশুড়ের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।
তিনি পরিষ্কার বলেছেন এ ধরনের কিছু হয়নি সেখানে। একটি ছেলে চুল কাটিয়ে টাকা কম দিয়ে যাচ্ছিলো। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে ছেলেটি পরে দেখিয়ে দিবো বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।" "রোববার তারা দোকান ভাংচুর করে এবং তার শ্বশুরকে মারধর করতে শুরু করলে তার স্বামী বাধা দেয়। পরে দুজনকেই মারধর করে পুলিশে দেয়া হয়েছে," অভিযোগ করেন দিপ্তী রানী শীল। তিনি আরও জানান,"আমি জানি না তারা কেন হুমকি দিচ্ছে। তবে বাড়িতে থাকতেই ভয় পাচ্ছি এখন।"
এই ঘটনার ভিত্তিতে স্থানীয় আল-হেরা জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার একজন সাক্ষী ও মসজিদের খতিব মোঃ জোবায়ের হোসেইন বলেন, "ওই দুই নাপিত নবীকে অসম্মান করে কথা বলেছেন। এর প্রত্যক্ষদর্শীও আছে।" তবে তিনিই আবার স্বীকার করেন,"আমি নিজে ও মামলার বাদী কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নই। তারা অভিযোগকারী ব্যক্তি ও অন্যদের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে নিশ্চিত হয়েছেন। ইমাম সাহেব মামলা করেছেন কারণ অভিযোগকারীর সাথে তার ইমাম-মুসল্লি সম্পর্ক আছে।"
ঘটনার তিন দিন পর কেন অভিযুক্তদের সেলুনে হামলা চালানো হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,"ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার এবং সেদিন সবাই জুমার নামাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। পরে দুজনের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে মুসল্লি ও স্থানীয়রা রবিবার সেলুনে গিয়ে তাদের আটক করে। এরপর পুলিশ ওদেরকে তাদের হেফাজতে নিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।" লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাজু মিঞা বলেন,"ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় মুসল্লিরা ওই দুই ব্যক্তিকে হেনস্তা করেন।
পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এখন তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।" পুলিশি রিপোর্ট ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, বালাটারী এলাকার মোঃ নাজমুল ইসলাম নামের এক তরুণ গত শুক্রবার গোশলা বাজারের সেলুনে চুল কাটাতে যান। অভিযোগ করা হয়, ওই সময় পরেশ চন্দ্র শীল ইসলাম ধর্ম ও নবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। মামলায় আরও বলা হয়, এর এক-দেড় মাস আগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের সাথেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন পরেশ চন্দ্র শীল।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, তারা বিষয়টি জানার পর রবিবার দুপুর সোয়া দুইটায় সেলুনে গিয়ে ওই দুইজনকে আটক করেন। তখনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





