প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

শনিবার দিবাগত রাতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতিকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীরা

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের আন্দোলন যখন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, তখন নতুন করে বিক্ষোভে গতি ফেরায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ফটোকার্ড: শনিবার দিবাগত রাতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতিকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীরা

শনিবার দিবাগত রাতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতিকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীরা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের আন্দোলন যখন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, তখন নতুন করে বিক্ষোভে গতি ফেরায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালানো হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পার্শ্ববর্তী ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ, স্থানীয় শ্রমিক-জনতা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। সেই দিনের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত ও শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন, যা সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দেয়। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া, গ্রেপ্তারের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা এবং দমন-পীড়নে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহীম আনছারী অপূর্ব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, তবে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ব্র্যাক ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী একসাথে হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন (PUSAB)-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতির অবস্থান নিশ্চিত করেন।

তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান, তবে পুলিশ আসতে দেরি করায় অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে শিক্ষার্থীরা তাকে নিজেদের জিম্মায় নেন। পরবর্তীতে উপস্থিত পুলিশের হাতে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই নেতাকে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অভিযুক্তকে তুলে দেওয়া। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাকে কেউ মারধর করেনি, বরং কেউ প্রহার করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনটির অনলাইন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হন যে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য পাচার করা হচ্ছিল এবং এর ফলে তারা ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।