বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ পদত্যাগ করেছেন
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সচিবালয়ের হস্তক্ষেপের কারণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগস্ট মাসে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একদমই নিতে চাইনি। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাহেব আমাকে কল দিয়েছিলেন। আমাকে বোঝালেন, ওনার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
এতগুলো মানুষ শহীদ হয়েছে, এখন পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব নিচ্ছি।’ আজ তিনি পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের কাছে জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সহযোগিতা না পাওয়ার ফলে তিনি তার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারেননি। এছাড়া, তিনি জানান, তাকে "আদিবাসী" শব্দ ব্যবহার করতে বাধা দেয়া হয়েছিলো।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই তিনি আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলেন এবং তাদের লড়াই ও সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানান। আজ ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে তিনি পদত্যাগপত্র শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের হাতে তুলে দেন। তবে, সচিব জানিয়ে দেন যে, শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি, বরং তিনি এটি শুধুমাত্র হাতে নিয়েছেন।
পদত্যাগের বিষয়ে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, "শিল্পকলা একাডেমির জন্য টাকা আদায় না করতে দেয়, পদে পদে বাধা দেয়। তাহলে এখানে থেকে আমার লাভ নাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার এখন নিজের কাছে ফিরে যাওয়ার দরকার।" এদিকে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি এখনও পদত্যাগপত্র পাননি, তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং চিঠি পাওয়ার পর এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




