প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রম আইন সংশোধন: আমলে না নিয়েই খসড়া চূড়ান্ত

শ্রম আইন সংশোধন: আমলে না নিয়েই খসড়া চূড়ান্ত

শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থের কথা আমলে না নিয়েই শ্রম আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট ৭ কোটি ৬৫ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। কিন্তু শ্রম আইন সংশোধনের সময় এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কথা মাথায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে পোশাক খাতের শ্রমিকদের কথা প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এমনকি শ্রমিকের সংজ্ঞাটিও সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ তহবিল ও চাকরি শেষে এককালীন অর্থ (গ্র্যাচুইটি) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না।

ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীন অধিকারও দেওয়া হচ্ছে না। আইএলওর বিধান মেনে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগও রাখা হয়নি। মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাকরির নিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতকালে দুর্ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের দায় নেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে শ্রমিকপক্ষের মতামত আমলে নেওয়া হয়নি। শ্রমিকনেতা ও ট্রিপার্টাইট কনসালটেটিভ কাউন্সিলের (টিসিসি) সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, "এই সংশোধনী শ্রমিকবান্ধব নয়। আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

মাতৃত্বকালীন ছুটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছয় মাস, পোশাক খাতের জন্য চার মাস, কিন্তু অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য কিছুই বলা হয়নি। আমরা চাই মাতৃত্বকালীন ছুটি সবার জন্য একই হোক, কিন্তু তা করা হচ্ছে না।" এই খসড়াটি আগামী ১০ থেকে ২০ মার্চ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে শ্রমিকদের দাবি ও মতামত উপেক্ষা করে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শ্রম আইন সংশোধনের এই খসড়াটি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখানো হবে। এরপর আইএলওর বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে মার্চ মাসের মধ্যে এই সংশোধনী কার্যকর হবে না। কারণ, আইএলওর বৈঠক শেষ করে দেশে ফিরে মার্চের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সংশোধনীটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে, যা কিছু সময়সাপেক্ষ হবে। আইএলওর বৈঠকে যোগ দিতে ৯ মার্চ ঢাকা ছাড়বে একটি প্রতিনিধিদল।

এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। দলে আরও থাকবেন শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ূন কবীর, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হোসেন সরকার এবং শ্রম উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত বছর আইএলওর গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। গত নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো প্রশংসা পেয়েছে।

এমনকি কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তুলে নেওয়ার কথাও বলেছে। তবে শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগে জাপানসহ ছয়টি দেশের পক্ষ থেকে আইএলওতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা এখনও চলছে। শ্রম আইন সংশোধনের এই খসড়া শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে এই সংশোধনী চূড়ান্ত করা হলে তা শ্রমিকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। আইএলওর বৈঠকে এই খসড়া উপস্থাপনের পর কী সিদ্ধান্ত আসে, তা এখন দেখার বিষয়।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।