প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ফটোকার্ড: স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সদ্য স্বাধীন দেশ, উচ্ছ্বাসে ভাসছে জনতা। কিন্তু সেই নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে থাকে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা খুঁজে পান না তাদের পোলিং এজেন্টদের, অনেকে নির্বাচনী এলাকা থেকে হারিয়ে যান। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু ভোট দেওয়ার আগেই ঘোষণা আসছে, “আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে।”

একদিকে সদ্য স্বাধীন দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক অনুশীলন, অন্যদিকে সেই নির্বাচনের দিন এবং ফল ঘোষণার পর ওঠা অনিয়মের অভিযোগ। বিরোধীরা একে বললেন—"ভোট ডাকাতির উৎসব"। সরকার পক্ষ বলল—"এটা জনগণের রায়"। তবে আসল সত্য কী? নির্বাচনের অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগগুলোকে যদি খতিয়ে দেখা হয়, তবে কী উঠে আসে? প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। নতুন দেশের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়।

এরপর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যেখানে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী), সিপিবি, জাসদসহ অন্যান্য দল তাদের ইশতেহার নিয়ে মাঠে নামে। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে নির্বাচনকে ‘মুজিববাদ’ এবং সংবিধানের ওপর ‘গণভোট’ বলে দাবি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে বিরোধী দল ন্যাপ (ভাসানী) ও জাসদ বলেছিল, তারা নির্বাচিত হলে একটি গণতান্ত্রিক ও ‘খাঁটি’ সমাজতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনীতিতে তখন প্রগতিশীল ও বামপন্থী প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়। ’৭৩–এর নির্বাচন উপলক্ষে দলগুলোর ঘোষিত ইশতেহারেও এর স্পষ্ট প্রতিফলন ছিল। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলই সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জনগণ ছিল কিছুটা অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগ ভেঙে নতুন দল জাসদ গঠিত হয়েছিল। এরপরও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল নিশ্চিত। অনিয়মের প্রথম ধাপ: মনোনয়ন দাখিলে বাধা নির্বাচনের মাঠে বিরোধী দলগুলো নামতে পারবে কি না, সেটিই ছিল প্রথম প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক জায়গায় বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতেই দেওয়া হয়নি।

ফরিদপুরে কে. এম. ওবায়দুর রহমান, ভোলায় তোফায়েল আহমেদ, মাগুরায় সোহরাব হোসেন ও মোতাহার উদ্দিন আহমেদ—বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেন। সিলেটের কয়েকটি আসনে কারচুপি করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করা হয়। কুমিল্লায় খন্দকার মোশতাক আহমদ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। (জাসদের উত্থান-পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃঃ ৯৮) মনোনয়ন জমা দিতে পারলেও অনেক প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপে বাধ্য করা হয় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে।

রাজশাহীতে এইচ. এম. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহে রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান ও মনোরঞ্জন ধর—বিরোধী প্রার্থীদের চাপ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন। অথচ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি, আর কামরুজ্জামান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য। (বাংলাদেশের রাজনীতি-হালিম দাদ খান, পৃঃ ৪৭) ভোটের দিনে কী ঘটেছিল? ভোট গ্রহণের দিন দেখা গেল, অনেক কেন্দ্রে বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্ট নেই। ব্যালট বাক্স আগেই পূর্ণ।

চট্টগ্রামের ২৯৪ নম্বর আসনে ন্যাপ প্রার্থী মোশতাক আহমদ চৌধুরীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও ১০ মার্চ রাতে রাষ্ট্রীয় বেতার থেকে জানানো হয়, তিনি পরাজিত। অলি আহাদ তার জাতীয় রাজনীতি বইয়ে উল্লেখ করেছেন, "১৯৭৩ সালের মার্চের সাধারণ নির্বাচনে প্রশাসনিক ক্ষমতার মারাত্মক অব্যবহার, চরম দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ, মিডিয়া ক্যু, দলীয় বাহিনীর যথেচ্ছ আগ্রাসী আক্রমণ ও ঢালাও হুমকির সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টি দখল করেন।

আমি যেখানে ২৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিশ্চিত জয়ের পথে ছিলাম, তখন বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমাকে ১০ হাজার ভোটে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।" (জাতীয় রাজনীতি - অলি আহাদ, পৃঃ ৪৬৪) টাঙ্গাইলে ন্যাপের প্রার্থী ড. আলীম আল রাজী, বরিশালে মেজর জলিল, ক্যাপ্টেন সুজাত আলী ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের জয় নিশ্চিত হলেও, তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়।

এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের আসনেও জয় ব্যবধান এত কম ছিল যে, শেষ মুহূর্তে তাঁর ভোট সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ঘোষণা করা হয় (বাংলাদেশের রাজনীতি-হালিম দাদ খান, পৃঃ ৪৩)। সরকারি সুবিধার অপব্যবহার নির্বাচনে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল নগ্ন ও সুস্পষ্ট। বিরোধী প্রার্থীরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি, অথচ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে প্রচার চালান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব নিজে দেশব্যাপী সরকারি যানবাহন ব্যবহার করে প্রচারণা চালান, মন্ত্রীরাও একই কাজ করেন। বিরোধীদের এমনকি টেলিভিশনে বা বেতারে প্রচারের সুযোগও দেওয়া হয়নি। আবুল মনসুর আহমেদ তাঁর বইয়ে লিখেছেন, "রেডিও টেলিভিশনে অপজিশন নেতাদের বক্তৃতা দূরের কথা, যানবাহনের অভাবে তাঁরা ঠিকমতো প্রচার চালাইতেও পারিলেন না। পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব দেশময় ঘূর্ণিঝড় টুওর করিতে লাগিলেন। মন্ত্রীরাও সরকারি যানবাহনের সুবিধা নিলেন।"

(আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ, পৃঃ ৬২৬) বিরোধী প্রতিক্রিয়া: কারচুপি নিয়ে ক্ষোভ নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দলগুলো একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। ৯ মার্চ জাসদের এক সংবাদ সম্মেলনে আসম আবদুর রব লিখিত বিবৃতিতে বলেন, "বিরোধী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, ভোট ডাকাতি করা হয়েছে, ফল ঘোষণায় কারচুপি হয়েছে।"

(গণকণ্ঠ, ১০ মার্চ ১৯৭৩; জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃঃ ৯৯) একইদিন কমিউনিস্ট পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়, "কতগুলো আসনে যেখানে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হয়, সেই সকল স্থানে আওয়ামী প্রার্থীদের তরফ হইতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিপন্থী অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বলিয়া বহু অভিযোগ রহিয়াছে।"

(সংবাদ, ১১ মার্চ ১৯৭৩; জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃঃ ৯৯-১০০) ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও সম্পাদক পঙ্কজ ভট্টাচার্য ৯ মার্চ একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, "কমপক্ষে ৭০টি নির্বাচনী আসনে যেখানে ন্যাপ ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সুনিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেই আসন সমূহে শাসক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, অস্ত্রের ঝনঝনানি, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস প্রয়োগ, গুন্ডাবাহিনী ব্যবহার, ভুয়া ভোট, পোলিং বুথ দখল, পোলিং এজেন্ট অপহরণ, বিদেশী সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ, সরকারি গাড়ি এবং রেডক্রসের গাড়ির অপব্যবহার প্রভৃতি চরম অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের মাধ্যমে উক্ত নির্বাচনী কেন্দ্রসমূহে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করিয়াছে এবং বিরোধী দলের প্রার্থীদের জোরপূর্বক পরাজিত করিয়াছে।"

(সংবাদ, ১০ মার্চ ১৯৭৩; জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃঃ ৯৯) নির্বাচনের ফলাফল প্রথম সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের ১১টিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চারটি আসনে প্রার্থী হন এবং দুটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্য নয়জন ছিলেন সোহরাব হোসেন, তোফায়েল আহমেদ, মোতাহার উদ্দিন, কে এম ওবায়দুর রহমান, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, মনোরঞ্জন ধর, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান। সরকার–সমর্থক সংবাদপত্রগুলোতেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বিরোধী দলগুলো ১৫-২০টি আসন পেতে পারে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, ২৮৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮২ আসনে জয়ী হয়েছে। ২টি আসনে বিরোধীরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন বাকি ৫টি আসনে।

বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খানের জয়লাভের বিষয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫.৬২ শতাংশ। মোট বৈধ ভোটের ৭৩.২০ ভাগই পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮.৩৩ ভাগ ভোট পেয়েছিল ন্যাপ (মোজাফফর)। এরপর জাসদ ৬.৫২ এবং ন্যাপ (ভাসানী) পেয়েছিল ৫.৩২ ভাগ ভোট। নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা সত্ত্বেও বিরোধীদের প্রতি আওয়ামী লীগের অবস্থান ছিল বেশ কঠোর।

নির্বাচনে বেশ কিছু আসনে ভোট গণনায় বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও তাঁদের শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে দেওয়া হয়নি বলে বিরোধীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদকে জয়ী ঘোষণার বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত।

এ বিষয়ে 'তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা' বইয়ে তাজউদ্দীনের কন্যা শারমিন আহমেদ লিখেছেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলেও দলের কিছু নেতা নির্বাচনে কারচুপি করে জিতেছে এ খবর কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং বড়দের আলোচনা থেকেও সে খবর শুনতে পাই। সিলেটের কয়েকটি আসনে কারচুপি এবং কুমিল্লায় খন্দকার মোশতাক চুরি করে জিতেছে এই খবরগুলো রাজনৈতিক মহলে তখন অজানা ছিল না।’ ১৯৭৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন হারায়।

তবে সেই সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৫টি আসনের সবগুলোই লাভ করে আওয়ামী লীগ। এর ফলে সংসদে মোট ৩১৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আসনসংখ্যা ছিল ৩০৬। আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নির্বাচনে বিরোধীদের বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল না, কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের বিজয় নিয়ে কনফিডেন্সহীন ছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করলে, ভাসানী পল্টনে জনসভা করতেন; লোকের মুখে বিতর্ক হতো কার জনসভায় লোক বেশি।

আবুল মনসুর আহমেদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের এই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিই তাদেরকে অনিয়মের পথে নিয়ে যায়। তিনি মনে করেন, বিরোধীরা নির্বাচন নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত ছিল, আর আওয়ামী লীগের অতি আস্থাহীনতা যৌক্তিক ছিল না। কিন্তু সেই আস্থাহীনতাই আওয়ামী লীগকে ম্যানেজড নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেয়। এই নির্বাচন ইতিহাসে কী বার্তা দেয়? ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রথম পরীক্ষা ছিল, কিন্তু সে পরীক্ষায় বাংলাদেশ সফল হতে পারেনি।

অনিয়ম, ভোট ডাকাতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার—এই সবকিছুর বীজ বপন করা হয়েছিল তখনই। সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা দেখা যায় পরবর্তী বহু নির্বাচনে। যার সর্বশেষ ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার আমলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।