গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় একটি কারখানার অপারেটরকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মাঝে এই ঘটনা শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় একটি কারখানার অপারেটরকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মাঝে এই ঘটনা শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ফলে এই ঘটনার বিচারসহ ১২ দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এক্সিস নীটওয়্যারস্ লিমিটেড নামের কারখানার শ্রমিকরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার (২২ মার্চ) দুপুর দেড়টা থেকে পৌনে তিনটা পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, উপজেলার নয়নপুর এলাকার এক্সিস নীটওয়্যারস্ লিমিটেড নামের কারখানার অপারেটর মোশারফ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রাকৃতিক কাজ সারতে কারখানার শৌচাগারে যান। শৌচাগারে সময় বেশি কাটানো হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই কারখানার সুপারভাইজার আল আমিন। এক পর্যায়ে অপারেটর মোশারফকে মারধর করা হলে অসুস্থতা বোধ করেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় তানিয়া মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এই ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা তাদের ১২টি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সম্পূর্ণ ছুটির টাকা প্রদান, ঈদে ১২ দিনের ছুটি, এক হাজার টাকা হাজিরা বোনাস, সুপারভাইজার ফৌরদৌস, আল আমিন, নজরুল ও সোহাগকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া। অভিযুক্ত সুপারভাইজার আল-আমিনের শাস্তির দাবি জানান তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শিল্প পুলিশ, মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ‘‘শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের আলোচনা করা হয়েছে। শ্রমিকরা যে দাবিগুলি উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান।’’ এরপর পৌনে তিনটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





