প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা: নিহতের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা: নিহতের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৫০,০২১ জন নিহত এবং ১১৩,২৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭,০০০ শিশু রয়েছে, যা পুরো একটি প্রজন্মের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

সর্বশেষ রবিবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে হামলা চালায়, যার ফলে হাসপাতালের সার্জারি ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হামলাকে জায়েজ দেখাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই হাসপাতালে হামাসের “একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে” লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে হাসপাতাল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের পর নতুন ধ্বংসযজ্ঞ: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মিশর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল। চুক্তির প্রথম ধাপে বন্দি বিনিময় হলেও, দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলের গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। তবে ইসরায়েল সেই শর্ত প্রত্যাখ্যান করায় নতুন করে হামলা শুরু হয়। আল জাজিরার গাজা শহরের প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেছেন, “৫০,০০০ নিহতের সরকারি সংখ্যা আসলে এক সংযত হিসাব।

অনেক মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে, যাদের নাম সরকারি রেকর্ডে নেই। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।” গাজা মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, ১১০০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১৮৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ওমর রহমান বলেন,“ইসরায়েল দাবি করে আসছে যে তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করছে, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেসামরিক মানুষের ওপরই হামলা বেশি হচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।” রাফাহ ও উত্তর গাজায় নতুন সামরিক অভিযান: রবিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাফাহ শহরের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দেয় এবং সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এছাড়া, উত্তর গাজার বেইত হানুনেও অভিযান চালানো হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন যে, কূটনৈতিক চুক্তির পরিবর্তে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হামাসকে চাপের মুখে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। হামাস জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে বন্দি মুক্তি দিতে রাজি, তবে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করতে হবে।

গাজা বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে,“গাজার পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি নিষ্ঠুর ও অবৈধ কাজ। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।” এদিকে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।