প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

গত ছয় মাসে চট্টগ্রামে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে

একই সময়ে কাজের আদেশ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

গত ছয় মাসে চট্টগ্রামে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে

গত ছয় মাসে চট্টগ্রামে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে কাজের আদেশ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। আসন্ন ঈদের আগে ৪৪টি কারখানায় কর্মরত ২১ হাজার শ্রমিকের বেতনভাতা পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৪৪টি কারখানাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বেতনভাতা পরিশোধ নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।

মালিকপক্ষ বলছে, কাজের আদেশ কমে যাওয়া ও আর্থিক সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিল্প পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় আটটি, সিইপিজেডে ছয়টি, ডবলমুরিংয়ে ছয়টি, পাহাড়তলীতে পাঁচটি, কেইপিজেডে তিনটি, বায়েজিদে তিনটি এবং নগরী ও উপজেলাগুলোতে আরও ১৩টি কারখানার কাজের আদেশ কম থাকায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, সংকট দেখা দিলেই দায় তাদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়। অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন, অন্যরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কাজের আদেশ না থাকায় অনেক কারখানায় বেতনভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত ছয় মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর বেশিরভাগই সাব-কন্ট্রাক্টে চলছিল, তবে বড় কারখানাগুলোও এখন সংকটে। বেতনভাতা নিয়ে সংকটে থাকা ৪৪টি কারখানায় শ্রমিকদের অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে এসব কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। কারখানাগুলো যে আর্থিক সংকটে আছে, সেটিও শিল্প পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কাজের আদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতাও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ছয় মাসে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কারখানা হামলার শিকার হয়েছে, কিছু কারখানা আর্থিক সংকটে টিকতে পারেনি। ক্রেতারা সময়মতো পণ্য না নেওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।