ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে মাইক্রোসফট: ফাঁস হওয়া নথি

ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথির সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফ্ট। গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাউড সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) প্রযুক্তিতে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েলকে। এই সহযোগিতার পরিমাণ ও গভীরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ড্রপ সাইট নিউজ নামক একটি অনুসন্ধানী সংস্থা যে নথিগুলো ফাঁস করেছে, সেগুলোতে দেখা যায় ইসরায়েল এখন মাইক্রোসফ্টের অন্যতম শীর্ষ বৈশ্বিক অংশীদার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি প্রকৌশল সহায়তা ও পরামর্শ বাবদ মাইক্রোসফ্টের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে আরও ৩ কোটি ডলারের অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফ্টের সম্পূর্ণ চুক্তির আর্থিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশিত খরচের তুলনায় অনেক বেশি। নথিতে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মাইক্রোসফ্ট ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারে ১৫৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। এই বৃদ্ধি মে মাসে রাফাহ অভিযানের ঠিক আগ মুহূর্তে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
সামরিক ক্ষেত্রে মাইক্রোসফ্টের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেবা হচ্ছে অনুবাদ টুলস এবং Azure OpenAI, যা সামগ্রিক ব্যবহারের প্রায় ৭৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। বিশেষভাবে বিতর্কিত একটি প্রযুক্তির নাম উঠে এসেছে—Lavender, যা গাজা উপত্যকার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হামাস সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। তেল আবিবভিত্তিক +972 ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, এই সিস্টেম প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ফিলিস্তিনিকে “সন্দেহভাজন” হিসেবে শনাক্ত করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় চলমান সংঘাত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একপ্রকার “সোনার খনি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক চুক্তি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে বহু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে মাইক্রোসফ্ট অন্যতম। ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মাইক্রোসফ্ট নানারকম ছাড়ও দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সামরিক ভূমিকা ও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এর আগে গুগলের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে এআই সহায়তা দেওয়ার খবর সামনে এসেছিল।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




