গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ধর্মঘট

সোমবার গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ও সংহতি প্রকাশ করতে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর জুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে। এই ধর্মঘটে দখলকৃত পশ্চিম তীরের শহর, জনপদ ও শরণার্থী শিবিরগুলোর কার্যক্রম একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম, পরিবহন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো—এবং ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোও সোমবার তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখে। রবিবার ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবারের জন্য একটি “সর্বাত্মক ধর্মঘট”-এর ডাক দেয়। এই ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয় বিশ্বব্যাপী গাজাকে কেন্দ্র করে ডাকা সংহতির ধর্মঘটের সঙ্গে মিল রেখে সব দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণে।
সংগঠনগুলো গাজায় চলমান ভয়াবহ গণহত্যা ও দখলদার রাষ্ট্রের যুদ্ধাপরা/ধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার আহ্বান জানায়। তারা গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং অভিযোগ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলি দখলদার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েল ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় গাজায় মারাত্মক হামলা শুরু করে, যা জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে লঙ্ঘন করে।
গত সপ্তাহে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন যে, তিনি গাজায় হামলা আরও জোরদার করবেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় ৫০,৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরো/ধী অপরাধের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে একটি গণহত্যার মামলাও চলমান।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




