প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

নরসিংদীর মাধবদীতে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সড়কে ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে

গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাধবদী পৌরসভার শাখার পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

ফটোকার্ড: নরসিংদীর মাধবদীতে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সড়কে ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে

নরসিংদীর মাধবদীতে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সড়কে ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাধবদী পৌরসভার শাখার পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. সেলিম মিয়া (৪৩) ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাধবদী পৌর শাখার একাধিক কর্মকর্তারা জানান, ২৭ মার্চ সকালে ওই ব্যাংকে ছাত্রশিবিরের ৯ থেকে ১০ জন কর্মী চাঁদা নিতে আসেন। ঈদের আগমুহূর্ত হওয়ায় ওই দিন ভিড় ছিল ব্যাংকে।

এ সময় ভিড় ঠেলেই চাঁদা তুলতে শুরু করেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁরা মো. সেলিম মিয়ার ডেস্কে গেলে তিনি তাঁদের বলেন, ‘আপনারা এভাবে কালেকশন না করে এক জায়গায় বসেন।’ এ সময় তিনি একজন কর্মকর্তাকে চাঁদা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। বিষয়টি শিবিরকর্মীর পছন্দ হয়নি। কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন বিকেলেই মাধবদী পৌর জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে শিবিরের নেতা–কর্মীরা আবার ব্যাংকে আসেন।

এ সময় ওই নেতা শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) আবু সাঈদকে বলেন, তাঁর কক্ষে যেন সেলিম মিয়াকে ডেকে আনা হয়। ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢোকার পর কোনো কিছু না শোনেই সেলিমকে আক্রমণ করে কথা বলতে থাকেন জামায়াত–শিবিরের লোকজন। একপর্যায়ে সেলিম মিয়ার হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেন তাঁরা। প্রতিবাদ করেন ব্যবস্থাপক। সেলিম মিয়া জানান, ওই ঘটনার জের ধরেই গতকাল শিবিরের ১০–১২ জন কর্মী তাঁকে টেনে গলিতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “হামলাকারীরা প্রায়ই চাঁদা তুলতে আসেন, তাই নাম না জানলেও তাঁদের চিনি। দুজন সহকর্মী এগিয়ে না এলে আজ কী হতো, জানি না।” শিবিরের নেতা–কর্মীরা চাঁদা না পেয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তিনজন জামায়াত নেতাসহ অন্তত ৪০ জনের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিষয়টি হেড অফিস ও জোনাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং থানা জামায়াতের আমিরকে জানানো হয়েছিল।

সব জায়গা থেকেই বলা হয়েছিল, ঈদের ছুটি শেষে বিষয়টি তাঁরা দেখবেন। এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটে গেল। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।’ মাধবদী থানা জামায়াতের আমির জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেই আমরা ব্যাংকে গিয়েছি। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, এর সমাধান করব।’ মাধবদী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ হাসপাতালের চিকিৎসক ফাতিমা আক্তার জানান, সেলিম মিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত মত দেওয়া যাবে। সূত্র: প্রথম আলো।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।