প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে রসুনের ভালো ফলন হয়েছে

জমি থেকে রসুন তুলতে ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

ফটোকার্ড: চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে রসুনের ভালো ফলন হয়েছে

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে রসুনের ভালো ফলন হয়েছে। জমি থেকে রসুন তুলতে ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন ভালো হলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকেই। মাঠ থেকে প্রতি কেজি রসুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করলেও বাজারে সেই রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ফলে লাভের মুখ দেখছেন না উৎপাদকরা, বরং লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। দিনাজপুরের দক্ষিণ আগ্রা, কাচিনিয়া ও ভাবকী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক জমিতে একযোগে চলছে রসুন তোলার কাজ।

পরিবারের সব সদস্য—নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুরাও—রসুন সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন। সেই রসুন বাড়ি থেকে বাজারে নেওয়া হচ্ছে বিক্রির জন্য। আগ্রা এলাকার কৃষক গজেন কর্মকার বলেন, ‘বীজের মণ ১২ হাজার টাকায় কিনেছি। সার, কীটনাশক, হালচাষ সবকিছু মিলে আরও কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু যে দামে বিক্রি করছি তাতে লোকসান হবে।’ একই এলাকার কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। তবে ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম পাচ্ছি না। এক বিঘায় আবাদে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়।

যদি এক বিঘায় ৫০ মণ হয় তাহলে বর্তমান বাজার অনুযায়ী মণ পড়ে তিন হাজার ২০০ টাকা। হিসেবে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হয়। তাহলে আমাদের লাভ কোথায়? তবে এই সময়ে আমদানি বন্ধ থাকলে ভালো দাম পাওয়া যায়।’ ভাবকী এলাকার কৃষক কেবল কর্মকার বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। এবার দাম কম। আমাদের বিক্রি শেষ হলে তখন দেখা যাবে বাজারে দাম বেড়ে গেছে। আসলে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য আমরা দাম পাই না।’

দক্ষিণ আগ্রা এলাকার কৃষক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে কিন্তু খুচরায় ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু আমরা বিক্রি করতে গেলে দাম পাই না। মণ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ২০০ থেকে চার হাজার। তিন গ্রেডে বাছাই হয়। বড়, মাঝারি ও ছোট। ছোট রসুনের দাম কম। আসলে এই দামে রসুন বিক্রি করে লাভ হয় না।’ কাচিনিয়া এলাকার কৃষক হবিবর রহমান বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে মণ ছিল ছয়-সাত হাজার টাকা। কিন্তু এবার দাম কম। কৃষকের কোনও লাভ হচ্ছে না। যে কৃষক সে কৃষকই থেকে যায়। ব্যবসায়ীরা লাভবান হন।’

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক জাফর ইকবাল বলেন, ‘চলতি বছর জেলায় তিন হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৪১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন উৎপাদিত হবে। তবে এখন দাম একটু কম। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দাম বাড়বে। কারণ সামনে কোরবানির ঈদ। কৃষকরা এই সময়টাতে রসুন শুকিয়ে রেখে দিতে পারেন। বাজারে যখন দাম বাড়বে তখন বিক্রি করবেন। সংরক্ষিত এসব রসুন পরবর্তী মৌসুমে বীজ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন তারা।’

কৃষকদের দাবি, বাজারে আমদানি বন্ধ থাকলে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তারা আবারও লাভজনকভাবে রসুন চাষে আগ্রহী হবেন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।