হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন বাতিল চায় পুলিশ

আজ থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। এবারের পুলিশ সপ্তাহে অন্যান্য দাবির পাশাপাশি পুনরায় উত্থাপিত হয়েছে ‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’ বাতিলের প্রস্তাব। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে গেলে এই আইনের বাধা রয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
চার দিনব্যাপী আয়োজিত এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“আমার পুলিশ আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”। এ বছর পুলিশের বিভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে স্বাধীন সাইবার ইউনিট গঠন, জনবল বৃদ্ধি, পুলিশ মেডিকেল কলেজ স্থাপন, পুলিশে ক্ষতিপূরণ ভাতা চালু, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, পদোন্নতি ও বদলি ব্যবস্থার সংস্কার; পাশাপাশি পুরোনো দাবি হিসেবে আবারও উত্থাপিত হয়েছে ‘হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ বাতিলের প্রস্তাব।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বাহারুল আলম বলেন, “পুলিশ পুরোপুরি কর্মক্ষম বা পূর্ণ সেবা দেওয়ার মতো অবস্থায় গেছে এটা বলার সুযোগ নেই। তবে প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়ে কিছু সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য—পুলিশ যেন আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাবও এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এই আইনটি ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, নিখোঁজ ও নির্যাতন রোধে। আইন অনুসারে, এমন ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এবার কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো প্যারেড না থাকলেও, এবার প্রথমবারের মতো নাগরিক সমাজ ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন রাখা হয়েছে। আইজিপি আরও বলেন, “মব ভায়োলেন্সের মতো ইস্যুতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এমনকি এ ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি থাকলেও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




