রাজধানীর খিলগাঁওয়ের রসুলবাগ এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের রসুলবাগ এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম শিহাবুল ইসলাম (২৪)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার-২০২৩ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খিলগাঁওয়ে নিজ ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানায়, দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিহাবুল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গুপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বাবার মৃত্যু ও আর্থিক সংকটের পর তিন ভাইবোন মিলে রাজধানীতে বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্র ও সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা যায়, বাবার মৃত্যু ও আর্থিক অনটনের কারণে শিহাবুলের পড়াশোনা পুরোপুরি নির্ভর করছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ স্কলারশিপের ওপর। এ স্কলারশিপ বজায় রাখতে হলে তার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩৫ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হতো।
কিন্তু শর্ট সামার সেমিস্টারে সীমিত কোর্সের কারণে সে তা পারেনি। পরবর্তী সেমিস্টারে বাড়তি চাপ নিয়ে প্রায় ২০ ক্রেডিটের কোর্স নিতে বাধ্য হন তিনি। এই সময়েই তার বড় বোনের বিয়ে হয়, যার ফলে পারিবারিক দায়িত্বও বেড়ে যায়। সে বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে স্কলারশিপ রক্ষায় সহানুভূতির আবেদন জানালেও কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার সহপাঠীরা। অথচ, ৫৫ ক্রেডিট সম্পন্ন করা এই শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩.৯৫।
একজন ঘনিষ্ঠ সহপাঠী জানান, “সে জানত যে এত ক্রেডিট একসাথে নিতে পারলে রেজাল্ট খারাপ হবে, আর রেজাল্ট খারাপ মানেই স্কলারশিপ হারানো—মানে পড়াশোনা শেষ। এই চাপে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।” ছাত্রদের অভিযোগ, এই সেমিস্টারে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৫ মাসের ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে তা ৩.৫ মাসে নামিয়ে আনা হয়, যা স্কলারশিপধারী অনেক শিক্ষার্থীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। শিহাবুলের আত্মহত্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, যাদের পড়াশোনা সম্পূর্ণভাবে স্কলারশিপের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য প্রশাসনের আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন ছিল। খিলগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




