প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

যাঁরা ইসলামের নামে রবীন্দ্রনাথের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন, তাঁরা আসলে ইসলামের সুন্দরের নীতিতে বিশ্বাসী নন

ফটোকার্ড: যাঁরা ইসলামের নামে রবীন্দ্রনাথের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন, তাঁরা আসলে ইসলামের সুন্দরের নীতিতে বিশ্বাসী নন

ভাসানীর কণ্ঠে উচ্চারিত রবীন্দ্রনাথ আসলে আমাদের সমন্বিত আত্মপরিচয়েরই প্রতীক। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন জাতীয় পরিষদে ঘোষণা দেন— রবীন্দ্রসংগীত পাকিস্তানি আদর্শবিরোধী, তাই তা রেডিও-টেলিভিশনে নিষিদ্ধ করা হবে। পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনায় রবীন্দ্রনাথের গভীর প্রভাবকে অস্বীকার করে বলা হয়, এই চর্চা ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী। এই ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলা।

ড. কুদরত-এ-খুদা, সুফিয়া কামাল, জয়নুল আবেদিন, মুনীর চৌধুরী, শামসুর রহমান, আহমদ শরীফসহ বহু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী একজোট হয়ে বিবৃতি দেন। অথচ অপরপ্রান্তে ছিল রাষ্ট্রপ্রধান-সমর্থিত এক ‘রবীন্দ্রবিরোধী জোট’, যারা রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করে নজরুলকে ‘পাকিস্তানি জীবনাদর্শ’-এর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল। এই উত্তপ্ত সময়ে, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে একটি ঐতিহাসিক বিবৃতি দেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

তিনি বলেন: “রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্য, সাহিত্য, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক ও উপন্যাস এবং সংগীতের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে নতুন গৌরবে অভিষিক্ত করেছেন। রবীন্দ্রনাথের আবেদন সর্বজনীন। ইসলাম সত্য ও সুন্দরের জয় ঘোষণা করিয়াছে। এই সত্য ও সুন্দরের পতাকাকে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ। তাই যারা ইসলামের নামে রবীন্দ্রনাথের উপর আক্রমণ চালাচ্ছেন, তারা আসলে ইসলামের সত্য ও সুন্দরের নীতিতে বিশ্বাসী নন।”

(সূত্র: দৈনিক পাকিস্তান, জুন ১৯৬৭) ভাসানীর এই বিবৃতি ছিল কেবল সাহিত্যচর্চার পক্ষে নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক ও যুক্তিনির্ভর মুসলিম মননের পক্ষেও এক শক্তিশালী অবস্থান। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করে, রবীন্দ্রনাথকে ‘অইসলামিক’ তকমা দেওয়ার অপচেষ্টা কেবল রাজনৈতিক নয়, তা ইতিহাস ও সংস্কৃতির সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান। এই বিবৃতি রবীন্দ্রবিরোধী চেতনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প কণ্ঠ— যা ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের পক্ষে দাঁড়ায়।

আজ, যখন আবার একই ধরনের গোষ্ঠীগত আক্রমণ শুরু হয়েছে রবীন্দ্রনাথের বিপরীতে, তখন ভাসানীর এই ইতিহাসসঞ্জাত বিবৃতি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। একদিকে যেমন এটি রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার স্বীকৃতি, অন্যদিকে এটি ইসলামের নামে অপপ্রচার চালানো গোষ্ঠীর ভাবমূর্তিও উন্মোচন করে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।