আজ ১৫ মে, ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বেদনাবিধুর দিন, নাকবা দিবস
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় লাখো ফিলিস্তিনিকে যেভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেটাই ইতিহাসে নাকবা বা “বিপর্যয়” নামে পরিচিত।

আজ ১৫ মে, ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বেদনাবিধুর দিন—নাকবা দিবস। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় লাখো ফিলিস্তিনিকে যেভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেটাই ইতিহাসে নাকবা বা “বিপর্যয়” নামে পরিচিত। আজ সেই ঘটনার ৭৭ বছর পার হলেও, ফিলিস্তিনিরা বলছেন—“নাকবা এখন কেবল ইতিহাস নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।” গাজা আর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের দুঃসহ জীবন এখনো চলমান নাকবারই অংশ, বলছেন অনেকেই।
গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় পুরো গাজার মানুষই শরণার্থী, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে অঞ্চলটি। রামাল্লাহ শহরে আজ নাকবা দিবস উপলক্ষে হাজারো মানুষ মিছিল করেন। শহরের মোড়ে মোড়ে উড়ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা, “ফেরার অধিকার” লেখা ব্যানার, কালো পতাকা আর ছোট ছোট শিশুদের হাতে ছিল বড় চাবির প্রতীক—যা হারানো ঘরের স্মৃতি বহন করে।
অনেক স্কুল থেকে শিশুদের নিয়ে আসা হয়েছিল এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। খান ইউনিসের বাসিন্দা মোয়েমন আল-শারবিনি বলেন,“আমরা প্রতিদিনই প্রিয়জন হারাচ্ছি, ঘর হারাচ্ছি। জীবন বলতে আর কিছু নেই—এটাই আমাদের নতুন নাকবা।” ইসরায়েলের নতুন সামরিক পরিকল্পনায় গাজাকে পুরোপুরি দখল করে মানুষজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমনকি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজার লোকদের “তৃতীয় দেশে পাঠানোর উপায় খুঁজছেন”।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। নুসাইরাতে থাকা মালাক রাদওয়ান বলেন,“নাকবা এখন আর শুধু একটি স্মরণ নয়। গাজার মানুষ প্রতিদিন সেটার মধ্যে দিয়েই বেঁচে আছে।” রামাল্লাহর নায়েল নাখলেহ, যার পরিবার ১৯৪৮ সালে জাফার কাছের আল-মাজদাল থেকে উৎখাত হয়, বলেন—“এই দিনটা আমাদের জন্য কষ্টের, কারণ এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো ঘরে ফিরতে পারিনি।”
ফিলিস্তিনিরা আজও তাদের “ফেরার অধিকার” দৃঢ়ভাবে দাবি করে যাচ্ছেন—যা এখনো ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধের মূল ইস্যুগুলোর একটি।(সূত্র:আল জাজিরা)
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।




