প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

'মার্চ টু যমুনা' পুলিশের বাধায় কাকরাইল মোড়ে টিএনজেড-এর শ্রমিকদের অবস্থান

'মার্চ টু যমুনা' পুলিশের বাধায় কাকরাইল মোড়ে টিএনজেড-এর শ্রমিকদের অবস্থান

বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের দাবিতে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি পালন করছেন টিএনজেড-এর আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। তবে যমুনা ভবনের অভিমুখে যাত্রার সময় কাকরাইল মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। বাধা পেয়ে কাকরাইল মোড়েই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকাল ৩টায় কাকরাইল মোড়ে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা।

প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি’ শীর্ষক ব্যানার হাতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক তাদের সব পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। আজ 'মার্চ টু যমুনা' ব্যানার হাতে শ্রম ভবন থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে পল্টনের দিক থেকে যমুনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন শ্রমিকরা। কিন্তু কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা কাকরাইল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্লোগানে কাকরাইল মোড় এখন উত্তপ্ত।

এর আগে, টিএনজেড-এর বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে গত ২৩ মার্চ থেকে শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। ৮টি কারখানার ৫,২১৯ জন শ্রমিকের ৫৪ কোটি ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে এই আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক শ্রমিকের ১-৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বকেয়া রয়েছে, আবার কারও কারও এক বছরের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়নি।

গত ২৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে কিছু আংশিক পরিশোধ হলেও, সর্বশেষ ২২ এপ্রিল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ৩য় বারের মতো বকেয়া পরিশোধের জন্য ৭ মে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেটিও বাস্তবায়িত না হওয়ায় শ্রমিকরা আবারও আন্দোলনে নামেন। ১১ ও ১২ মে ঢাকা ও গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সমাবেশেও দাবি আদায়ের অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মানবেতর পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

তাদের অভিযোগ, এই আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে, যার ফলে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন। দীর্ঘ অবস্থান কর্মসূচিতেও অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই ঘোষণা আসে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির, যা শুরু হয় আজ ২০ মে দুপুর ২:৩০ মিনিটে শ্রম ভবনের সামনে থেকে। মূল উদ্দেশ্য ছিল যমুনা টাওয়ারে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি—এই লড়াই কত দীর্ঘ হবে, তা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার উপর। তাদের ভাষায়, “আমাদের পাওনা টাকা চাই, প্রতিশ্রুতি নয়”।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।