প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

পাঁচ মাস ধরে বন্ধ ফুলতলা চা-বাগান: দেড় হাজার শ্রমিকের ঘরে অভাব-অনটন

পাঁচ মাস ধরে বন্ধ ফুলতলা চা-বাগান: দেড় হাজার শ্রমিকের ঘরে অভাব-অনটন

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলতলা চা-বাগান গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। এতে চায়ের কুঁড়ি তোলা বন্ধ হয়ে গেছে, বুড়িয়ে যাচ্ছে চা-গাছ, আর দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিক পড়েছেন চরম মানবেতর অবস্থায়। ঘরে খাবার নেই, চিকিৎসার টাকাও নেই। বাগানের শ্রমিক রাজকুমার রবিদাস (৪০) বর্তমানে পিত্তথলির রোগে ভুগছেন। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন, কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর কণ্ঠে হতাশার সুর— “পেট খালি রেখে আর কতদিন চলে?”

১৮৯৬ সালে স্থাপিত এই বাগানটি একসময় ব্রিটিশ মালিকানায় ছিল, বর্তমানে এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে 'দ্য নিউ সিলেট টি এস্টেটস লিমিটেড'। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. রফিক সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। চা শ্রমিকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে মজুরি দিতে গড়িমসি করছিল কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি অস্থায়ীভাবে বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় তারা নিজেরাই কিছুদিন কাজ চালিয়ে যান। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গঠিত কমিটিও সংকট কাটাতে পারেনি।

একপর্যায়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন। বাগানটির প্রধান করণিক আবদুল ওয়াদুদ জানান, প্রতি সপ্তাহে শুধু শ্রমিকদের মজুরিতেই ভরা মৌসুমে লাগে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। বাকি সময়ে লাগে ১৭-১৮ লাখ। চা বিক্রির বিলম্ব, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিলাম—সব মিলিয়ে এক মাসে বিশাল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা এখন বড় বাধা। বাগানে এখন শুধুমাত্র কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবস্থান করছেন নিরাপত্তার খাতিরে। কারখানা ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলছে, চা-গাছে কেউ কুঁড়ি তুলছে না।

অনেক শ্রমিক অন্য বাগানে স্বল্প মজুরিতে কাজ করছেন, কেউ কেউ পেশা বদলে দিনমজুর হয়েছেন। শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি রবি বুনারজি বলেন, “১৭ সপ্তাহের মজুরি-রেশন বাকি। কাজ নাই, খাবার নাই। প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাইনি।” বাগান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঢাকায় একটি বৈঠক হয়েছে।

সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২৭ মে জুড়ী উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আরেকটি বৈঠক হবে, যেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসন উপস্থিত থাকবেন। তবে জুড়ী উপজেলার ইউএনও বাবলু সূত্রধর জানিয়েছেন, এই বৈঠকের বিষয়ে এখনো তাঁদের লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “বাগান চালুর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।” সূত্র: প্রথম আলো

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।