প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন চাওয়ায় নার্সকে মারধরের অভিযোগ

পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন চাওয়ায় নার্সকে মারধরের অভিযোগ

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন আশা মনি (২০) নামে এক নারী নার্স। ঘটনার পর হাসপাতালের বেশিরভাগ কক্ষে তালা ঝুলিয়ে মালিকপক্ষ ও কর্মচারীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। ভুক্তভোগী আশা মনি মেলান্দহ পৌরসভার বাসুদেবপুর এলাকার আসর শেখের মেয়ে। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। শুরুতে বেতন নিয়মিত পেলেও গত পাঁচ মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (২ জুন) দুপুরে হাজরাবাড়ী বাজারে অবস্থিত হাসপাতাল কার্যালয়ে গিয়ে বকেয়া বেতন চাইলে, হাসপাতালের মালিক মো. সবুজ ও মো. রফিক উত্তেজিত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে দাবি করেন আশা মনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, শুধু মারধরই নয়, তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ওই রাতেই মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন (মঙ্গলবার, ৩ জুন) মেলান্দহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তে নার্সকে মারধরের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ গিয়ে দেখে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, রিসেপশন, ব্লাড কালেকশন রুমসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো বন্ধ রয়েছে। কোনো রোগী বা স্বজনকেও সেখানে দেখা যায়নি।

হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, আশা মনির অভিযোগ সঠিক। “আমরাও দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না। মালিকপক্ষ বেতন চাইলে দুর্ব্যবহার করে। চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।” অভিযুক্ত মো. সবুজ বলেন, “আশা মনির এক মাসের বেতন বাকি, পাঁচ মাসের নয়। সেদিনই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফার্মেসির কিছু দেনা মেটাতে গিয়ে হাতে টাকা ছিল না। মারধরের ঘটনা ঘটেনি, শুধু কথাকাটাকাটি হয়েছে।” আশা মনি বলেন, “আমি শুধু আমার প্রাপ্য টাকা চেয়েছি।

বিনিময়ে আমাকে যেভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা কল্পনাও করিনি। এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” স্থানীয়রা জানান, হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে বেতন সংক্রান্ত বিরোধ আগেও হয়েছে। কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের ঝামেলা এখানে নতুন নয়।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।