প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

ঈদের আগে বকেয়া মজুরি না পেয়ে উত্তরা উত্তপ্ত: টিএনজেড শ্রমিকদের পরিচালক শাহিন আলমের বাসার সামনে অবস্থান

ঈদের আগে বকেয়া মজুরি না পেয়ে উত্তরা উত্তপ্ত: টিএনজেড শ্রমিকদের পরিচালক শাহিন আলমের বাসার সামনে অবস্থান

ঈদুল আজহার মাত্র কয়েকদিন আগে টিএনজেড গ্রুপের আটটি কারখানার হাজারো শ্রমিক এখনও তাদের বকেয়া মজুরি, বোনাস ও ভাতার জন্য অপেক্ষায়। ঈদের আগে মালিকপক্ষ সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বুধবার দুপুর থেকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে টিএনজেডের পরিচালক শাহিন আলমের বাসার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

টিএনজেড গ্রুপের মালিকপক্ষ মঙ্গলবার মাত্র ২৫০ জন শ্রমিক ও স্টাফকে আংশিক বকেয়া পরিশোধ করলেও, বাকি পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এখনও মজুরি থেকে বঞ্চিত। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকার কথা থাকলেও, মালিকপক্ষ "ব্যাংকিং লেনদেন চলছে না" এমন অজুহাত দেখিয়ে কোন অর্থ পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তুলেছে যে, এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের একটি অংশ মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তাদের দাবি, এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের একটি চক্র আন্দোলনের সামনের সারির কিছু প্রতিনিধিদের নাম নিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে ‘চাঁদা’ আদায় করেছে। জানা গেছে, আংশিক বকেয়া পাওয়ার পর ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা বাকি বকেয়া আদায় ও অন্যান্য বিভিন্ন অজুহাতে তোলা হয়েছে। দুই ঈদ অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলেও বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ত্রিপক্ষীয় কমিটিকে যুক্ত না করে এনসিপির শ্রমিক উইং এর লোকজনের জোগসাজসে ২৫০ জন শ্রমিক স্টাফদের বকেয়া পরিশোধ এবং সেখান থেকে এনসিপির শ্রমিকনেতাদের কমিশন রাখার অভিযোগও উঠে এসেছে। এমতাবস্থায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধ অনিশ্চিত। টানা তিন মাস আন্দোলনের পরও বারবার আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল শ্রম মন্ত্রণালয়, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ৭ মের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসে এটিই তৃতীয়বার। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। ৫,২১৯ শ্রমিকের ৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত পরিশোধ হয়েছে মাত্র ২২ কোটি। অনেক শ্রমিকের ১-৩ মাসের বেতন বাকি, কেউ কেউ এক বছর আগের পাওনাও পাননি। এমনকি ঈদের বোনাসও পরিশোধ হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, এ অবস্থায় তারা চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন— কেউ হাসপাতালের শয্যায়, কেউ অনাহারে। এই দীর্ঘ আন্দোলনের মুখেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বরং শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের একটাই প্রশ্ন— বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, দালালি ও বিভ্রান্তি— এসব পেরিয়ে তারা তাদের ন্যায্য পাওনা কখন পাবে? আন্দোলন থামবে, যদি সরকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। নইলে এই লড়াই যে দীর্ঘতর হবে, সে আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে উত্তরা থেকে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।