বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রম ভবনে মালিকপক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ

গাজীপুরের সিজন্স ড্রেসেস কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে মালিকপক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন। বকেয়া বেতন ও বোনাসের অর্থ পরিশোধে আন্দোলনের পরেও কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় রোববার (২২ জুন) সকাল থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হয়। সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রম ভবনের সামনে ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, “মালিকপক্ষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিকের দুই মাসের বেতন ও দুটি বোনাসসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। যদি কারখানা চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে শ্রমিকদের মোট পাওনা দাঁড়াবে প্রায় ২০ কোটি টাকা।” তিনি আরও জানান, গত ১৬ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় শ্রম ভবনে মালিক, শ্রমিক ও প্রশাসনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও সরকারের ঊর্ধ্বতন কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কেবল শিল্প পুলিশের প্রতিনিধি ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। মালিকপক্ষের চারজন প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও এসেছেন মাত্র একজন। এছাড়া, যেই ব্যাংকের কাছে কারখানা বন্ধক রাখা আছে, সেই ব্যাংকের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, যদিও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কবির হাওলাদার অভিযোগ করেন, বৈঠকে মালিকপক্ষের একটি অংশ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
ফলে শ্রমিক নেতারা বৈঠক বয়কট করে আন্দোলনে নেমেছেন। অন্যদিকে, একই এলাকার আরেক কারখানা তারাটেক্স ফ্যাশনের শ্রমিকদের কিছু দাবি মেনে নেওয়ায় তারা বিক্ষোভ থেকে সরে গেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে শ্রম ভবনের সামনে আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





