প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

পেঁয়াজ চাষে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন অঞ্চল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষকরা

চলতি মৌসুমে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের খরচ পড়েছে গড়ে ২ হাজার টাকার বেশি, অথচ বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।

পেঁয়াজ চাষে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন অঞ্চল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষকরা

পেঁয়াজ চাষে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন অঞ্চল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষকরা। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের খরচ পড়েছে গড়ে ২ হাজার টাকার বেশি, অথচ বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ফলে প্রতিমণ পেঁয়াজেই কৃষকদের গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকার লোকসান।

শুক্রবার (২৭ জুন) সরেজমিনে সালথা উপজেলার বালিয়া বাজার, ঠেনঠেনিয়া হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। অনেকে হতাশ হয়ে পেঁয়াজ না বেচেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন,“সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক, পানি—সবকিছুর খরচ মিলে প্রতি মণ পেঁয়াজে গড়ে ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। আমরা কি খাবো?”

ঠেনঠেনিয়া হাটে আসা চাষি খলিল হোসেন বলেন,“ভালো দাম আসবে এই আশায় ঘরে রেখেছিলাম, এখন সেই পেঁয়াজ ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকিটাও বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে। যদি এখন বাজারে দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা থাকত, তাহলে অন্তত লোকসান হতো না।” সালথার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে সাপ্তাহিক হাটে হাজার হাজার মণ পেঁয়াজ কেনাবেচা হয়।

নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, সালথা সদর, বালিয়া গট্টি, কাগদি, জয়কাইল, মোন্তার মোড়, মাঝারদিয়া, বাউষখালী, যদুনন্দী- এসব বাজারে ফরিদপুর ছাড়াও আশপাশের জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের ন্যায্যমূল্য না থাকলে কৃষকেরা আগামীতে চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। চাষি সিরাজ মোল্যা বলেন,“আমরা চাই প্রতি মণ পেঁয়াজের ন্যূনতম দাম ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা করা হোক।

না হলে আমাদের মত চাষিরা পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দিবে।” কৃষকদের দাবি, ধান-গমের মতো পেঁয়াজেও সরকারি সহায়তা দরকার। এছাড়া প্রতি ইউনিয়নে কোল্ডস্টোরেজ গড়ে তুললে সংরক্ষণের মাধ্যমে দাম পড়ে যাওয়ার এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথায় প্রায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুদীপ বিশ্বাস বলেন,“ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা পরিশ্রম করেছেন।

তবে এখন বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমে গেছে। আমরা কৃষকদের সাহস ও পরামর্শ দিয়ে পাশে আছি।” উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন,“কৃষিপণ্যের বাজার সবসময় চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত ও বাইরে থেকে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।