প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

এই হামলার ফলে গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই হামলার ফলে গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গাজা সিটির বাসিন্দা রাবিহা জামাল (৬৫) বলেন, "এটা ছিল জাহান্নামের রাত। যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোর মতো মনে হচ্ছিল। আমরা রোজা রাখার জন্য খাবার প্রস্তুত করছিলাম, এমন সময় ভবন কেঁপে উঠল এবং বিস্ফোরণ শুরু হলো।

আমরা ভেবেছিলাম সব শেষ, কিন্তু যুদ্ধ আবার ফিরে এসেছে।"ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজা উপত্যকার উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ঘরবাড়ি ও তাবু শিবিরগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ৪০৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। এছাড়া ৫৬২ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে রক্তাক্ত লাশের স্তূপ জমে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক লাশ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে হামাসের বাকি বন্দীদের মুক্তি না দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে "কঠোর পদক্ষেপ" নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে হামাস ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করার কথা বলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক ইসরাইলি হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "এটি এক ট্র্যাজেডির উপর আরেক ট্র্যাজেডি যোগ করবে। ইসরাইলের সামরিক শক্তি প্রয়োগ ফিলিস্তিনি জনগণের উপর আরও দুর্ভোগ চাপিয়ে দেবে, যারা ইতিমধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।"

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইসরাইল হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ বলেছেন, "হামাস বন্দীদের মুক্তি দিয়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুদ্ধ বেছে নিয়েছে।" রাশিয়ার ক্রেমলিনও ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানুয়া বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী। তবে হামাস যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলি সম্প্রদায়ে হামলা চালানো হয়,যাতে ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে অপহরণ করা হয়। এর জবাবে ইসরাইলি অভিযানে গাজায় ৪৮,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাও রয়েছে। এই সংঘাত ইতিমধ্যেই লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।