প্রান্তিক নিউজের পাশে, সত্য খবরের সাথে থাকুন।সত্যের সাথে থাকুন।

সহায়তা করুন

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

ডিপ্লোমা বনাম বিএসসি প্রকৌশলী: পার্থক্য ও আন্দোলনের যৌক্তিকতা

ফটোকার্ড: ডিপ্লোমা বনাম বিএসসি প্রকৌশলী: পার্থক্য ও আন্দোলনের যৌক্তিকতা

ডিপ্লোমা ও বিএসসি প্রকৌশলীদের মধ্যে পার্থক্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতায় স্পষ্ট। বিএসসি প্রকৌশলীরা চার থেকে পাঁচ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যাদের তত্ত্বীয় জ্ঞান, নকশা ও সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বেশি থাকে। অন্যদিকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা চার বছরের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। এই কোর্সে এসএসসি পাশের পাশাপাশি এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীরাও চতুর্থ পর্বে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। ফলে তাঁদের শিক্ষাগত কাঠামোও একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি উচ্চশিক্ষার ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিপ্লোমাধারীদের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি ১৮৭৬ সাল থেকেই সংরক্ষিত, অর্থাৎ তাদেরকে প্রকৌশল খাতের ভেতরেই সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। একজন সাধারণ স্নাতক পাশ শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং বা অন্যান্য খাতে সহজেই চাকরির সুযোগ পান, কিন্তু একজন ডিপ্লোমা হোল্ডার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ছাড়া অন্য কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারেন না। একইসঙ্গে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও তুলনামূলকভাবে সীমিত, যা একটি বড় বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে।

এই বাস্তবতায় দুই ধরনের শিক্ষার্থীর কাজের ধরন ও দায়িত্ব আলাদা হওয়াটা স্বাভাবিক—যেমন চিকিৎসক ও নার্সের দায়িত্ব ভিন্ন। কিন্তু সংঘাতের মূল কারণ হলো, ডিপ্লোমাধারীরা বিশেষ সুবিধা, কোটা ও সংরক্ষিত পদ চান, আর বিএসসি শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে চান।

বিএসসি শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, নবম গ্রেডে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সংরক্ষিত ৩৩ শতাংশ কোটা এবং দশম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য থাকা শতভাগ কোটা বাতিল করে যোগ্য সকল প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত নিয়োগ চালু করতে হবে। পাশাপাশি ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি কেবলমাত্র বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সীমিত রাখারও দাবি তাঁদের।

অন্যদিকে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁদের অবৈধ পদোন্নতি বাতিল করতে হবে, চার বছরের মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে সংরক্ষণ বজায় রাখতে হবে এবং কারিগরি খাতের পদগুলোতে অবশ্যই কারিগরি শিক্ষিতদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন, টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নতুন কলেজে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করারও দাবি তুলেছেন।

সবশেষে বলা যায়, এই দ্বন্দ্ব মেটাতে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পৃথক ক্যারিয়ার পাথ তৈরি করা জরুরি, যাতে ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ধরনের প্রকৌশলী তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্বে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং সরকারি চাকরিতে একটি স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক সুযোগ নিশ্চিত হয়।

এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।