দেড় দশক পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত হলো ষষ্ঠ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কনসালটেশন। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকায় এই বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৯৭১-এর যুদ্ধকালীন নৃশংসতার জন্য ক্ষমা ও স্বাধীনতাপূর্ব বকেয়া সম্পদের দাবির বিষয়ে পাকিস্তানের বিবৃতিতে কোনো উল্লেখ নেই।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচের নেতৃত্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি নিউইয়র্ক, কায়রো ও জেদ্দায় উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে, যা সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সংযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে মৎস্য ও সামুদ্রিক গবেষণায় প্রশিক্ষণের সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছে। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন স্পষ্টভাবে বলেন, "১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে আমরা পাকিস্তানের কাছে দাবি জানিয়েছি।"
এছাড়া, ১৯৭১-পূর্ববর্তী যৌথ সম্পদে বাংলাদেশের প্রাপ্য ৪৩২ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতিতে এই ইস্যুগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের কথা বললেও বাংলাদেশের আবেগপ্রবণ ও ঐতিহাসিক এই দাবিগুলো এড়িয়ে গেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক ড. মেহেদী হাসান বলেন, "পাকিস্তানের এই নীরবতা দেখাচ্ছে যে, তারা ইতিহাসের জটিল প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কাছে এই ইস্যুগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "আলোচনা ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এই সংবেদনশীল বিষয়গুলোও সমাধানের পথে যাবে।"উভয় দেশই নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। তবে, বাংলাদেশের দাবিগুলো পাকিস্তান কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এই বৈঠককে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আসবে কিনা, সেটা এখন নির্ভর করছে পাকিস্তানের ইতিহাসের দায় স্বীকার ও বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি পূরণের ওপর।
এই খবর প্রথম প্রকাশ হয়েছিল প্রান্তিক নিউজের ফেসবুক পাতায়।





